হৃদ রোগ একটি মারাত্মক রোগ।হৃদ রোগের প্রধান কারণ হচ্ছে রক্তের মধ্যে কোলেস্টেরল এর মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া।কোলেস্টেরল হলো এক ধরনের চর্বি।

হার্টের রোগীর খাবার তালিকা,হার্টের রোগীর জন্য দুধ,হার্টের রোগীর ব্যায়াম,হার্টের রোগীদের খাদ্য তালিকা,হার্টের রোগীর করণীয়,হার্টের রোগীর ডায়েট চার্ট,


রক্তনালীতে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে রক্তনালী ধীরে ধীরে সরু হতে শুরু করে।এক সময় এই নালী দিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।ফলে হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। 

হৃদ রোগের ঝুঁকি কমাতে কোলেস্টেরল বেশি এমন কিছু খাবার বাদ দিতে হবে।

হৃদ রোগের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব খাবার

ডিমের কুসুম

ডিম খায় না এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।একটা ডিমের কুসুমে প্রচুর পরিমানে কোলেস্টেরল থাকে।ডিমের সাদা অংশে কোলেস্টেরল খুবই কম থাকে।হৃদ রোগীর ডিম খাওয়ার সময় অবশ্যই ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে খেতে হবে।

প্রানিজ খাদ্য 

গরু ও ছাগলের কলিজা,হাড় ও মগজে প্রচুর পরিমানে কোলেস্টেরল থাকে।হৃদ রোগীরা এধরণের খাবার অবশ্যই বর্জন করবেন। 

আরও পড়ুন

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা    

এলার্জি জাতীয় খাবার তালিকা

    

মাছের মাথা ও ডিম

আমরা অনেকে মাছের মাথা ও মাছ ডিম খেতে খুব ভালোবাসি।মাছের মাথা ও ডিমে প্রচুর পরিমানে কোলেস্টেরল থাকে।হৃদ রোগের ঝুঁকি কমাতে অবশ্যই মাছের মাথা ও ডিম ত্যাগ করতে হবে।

পাম তেল

পাম তেলে কোলেস্টেরল বা চর্বি অতিরিক্ত পরিমাণে থাকে।পাম তেল খাওয়ার জন্য অনেক হৃদ রোগীর মৃত্যু হয়।হৃদ রোগের ঝুঁকি কমাতে খাদ্য তালিকা হতে পাম তেল বাদ দিতে হবে।

তৈলাক্ত খাবার

তৈলাক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার কোলেস্টেরল এর প্রধান উৎস।বাজারে হোটেলে বেশিরভাগ খাবার ভাজাপোড়া যুক্ত।হৃদ রোগের সমস্যা থাকলে এসব তৈলাক্ত খাবার বাদ দিতে হবে। 

চিংড়ি

চিংড়ি মাছে ও রয়েছে প্রচুর পরিমানে কোলেস্টেরল।চিংড়ি মাছে ক্যালোরি ও ফ্যাট কম থাকে।তাই যাদের হৃদ রোগ হয়েছে তাদের চিংড়ি মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। 

ফাস্ট ফুড

অনেকে ফাস্টফুড খায় কিন্তু জানেনা ফাস্টফুড কাকে বলে।ফাস্টফুড বলতে বোঝায় দ্রুত তম খাবার।যে খাবার দ্রুত তৈরি করা হয় তাকে ফাস্টফুড বলা হয়।যেমন, বার্গার,পিজ্জা,সিংরা, পাস্তা,ম্যাগি ও মোগলাই ইত্যাদি।এই ধরনের খাবারে কোলেস্টেরল এর মাত্রা খুব বেশি থাকে।তাই হৃদ রোগীর এসব খাবার খাওয়া উচিৎ নয়। 

হার্টের রোগীর খাবার তালিকা

মৌসুমি ফলমূল

যে মৌসুমে যে ফলমূল পাওয়া যায় সেই ফলমূল বেশি বেশি খাওয়ার চেষ্টা করবেন।পেয়ারা,পেঁপে,লেবু,ডালিম,কমলা,আপেল,আম,জাম,কলা ইত্যাদি।এসব ফল রক্তে কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করবে।হৃদ রোগী এসব ফলমূল প্রতিনিয়ত খাবার চেষ্টা করবেন।

মাংস

যেসব প্রাণীর মাংসে কোলেস্টেরল বা চর্বি থাকে না সেসব মাংস খেতে হবে।মুরগী ও হাঁসের মাংসে কোলেস্টেরল বা চর্বি থাকে না থাকলেও সেটা খুব কম।হার্টকে সুস্থ ও সবল রাখতে এসব মাংস খেতে হবে।

মাছ

সামুদ্রিক মাছের চেয়ে দেশি মাছে কোলেস্টেরল এর মাত্রা খুব কম থাকে।বিশেষ করে বড় মাছের মাথায় বেশি পরিমাণে কোলেস্টেরল থাকে।তাই দেশি মাছ খেতে হবে।টেংরা,পুঁটি,শাটি,কৈ,মাগুর,শিং এসব মাছ হার্টের রোগীর খাওয়া উচিত।

উদ্ভিজ্জ তেল

যেসব তেল গাছ থেকে তৈরি তাকে উদ্ভিজ্জ তেল বলে।সয়াবিন তেল,সূর্যমুখী তেল,অলিভ-অয়েল তেল,বাদাম তেল ও শরিষার তেল এসব হচ্ছে উদ্ভিজ্জ তেল।এসব তেল রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ধ্বংস করে।হার্টের রোগীর এসব তেল খাওয়া উচিত।

সোডিয়াম 

সোডিয়াম এর অন্যতম উৎস হচ্ছে লবণ।প্রতিদিন বিভিন্ন খাবার লবণ যুক্ত করে খেতে হবে।

শাক-সবজি

তাজা শাক-সবজি বলা চলে সব রোগের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে থাকে।লাউ,বাধাকপি,ফুলকপি,বেগুন,ঢেড়স,লাল শাক,পুঁই শাক,কচু শাক,পালং শাক এন্টিঅক্সিডেন্ট এর প্রধান উৎস।এসব শাক-সবজি রক্তে কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।তাই একজন হার্টের রোগীর জন্য প্রতিনিয়ত শাক-সবজি খাওয়া উচিত।

গ্রীণ টি

আমরা বেশি ভাগ মানুষ চা খেয়ে থাকি।আমরা গ্রীণ টি এর চেয়ে লাল চা ও দুধ চা বেশি খেয়ে থাকি।কিন্তু এগুলো চায়ের চেয়ে গ্রীন টি আমাদের জন্য অনেক উপকারী।কারণ গ্রীণ টি তে এন্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান।

বাদাম

আমাদের দেশে অনেক ধরনের বাদাম পাওয়া গেলেও এদের মধ্যে অন্যতম হলো কাঠবাদাম ও চিনাবাদাম।চিনাবাদাম ও কাঠবাদামে প্রচুর পরিমানে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।হার্টের রোগীর জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ গ্রাম বাদাম খাওয়া উচিত।    

উপরে দেখানো খাদ্য গুলো একজন হার্টের রোগীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে সেসব খাবার অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত।আর যেসব খাবার খেতে বলা হয়েছে সেসব খাবার অবশ্যই খাওয়া উচিত।                

1 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন